• ৮ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Train Accident

দেশ

এসি কামরায় আগুনের লেলিহান শিখা, মাঝরাতে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই

চলন্ত দূরপাল্লার ট্রেনের এসি কামরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। পুড়ে ছাই হয়ে গেল পরপর দুটি কোচ। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক যাত্রীর। সোমবার ভোরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা জানায় রেলমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের টাটানগর থেকে কেরলের এর্নাকুলামগামী এক্সপ্রেস ট্রেনটি বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে অন্ধ্র প্রদেশের আনাকাপালি জেলার কাছে।ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে। তখন রাত প্রায় ১টা। নিজের গতিতে ছুটে চলছিল এর্নাকুলামগামী ট্রেনটি। হঠাৎই চালকের নজরে আসে একটি কোচ থেকে আগুনের শিখা উঠছে এবং তা পাশের কোচের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন চালক। দ্রুত যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয় এবং আগুন লাগা কোচগুলি থেকে উদ্ধার শুরু হয়।রেল আধিকারিকদের মতে, আগুন লাগা কোচে মোট ৮২ জন যাত্রী ছিলেন। পাশের কোচে ছিলেন আরও ৭৬ জন। প্রায় সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন যাত্রীকে বাঁচানো যায়নি। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় চন্দ্রশেখর সুন্দরম নামে এক যাত্রীর।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ট্রেনের বি১ এসি কোচে আগুন লাগে। সেখান থেকে দ্রুত তা বি২ কোচে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যাতে গোটা ট্রেনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে কারণে এম১ কোচ থেকে আগুন লাগা অংশ আলাদা করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। চারটি দমকল ইঞ্জিনের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ততক্ষণে দুটি এসি কোচ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।এই অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে মর্মান্তিক ঘটনা, কুয়াশায় প্রাণ গেল চারজনের

এসআইআর আবহের মধ্যেই শনিবার পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নদিয়ার তাহেরপুরে তাঁর সভা রয়েছে। সকাল থেকেই সভাস্থলের দিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। ঠিক সেই সময়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ট্রেনের ধাক্কায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে শক্তিনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, মৃত ও আহত সকলের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদির সভায় যোগ দিতেই নদিয়ার তাহেরপুরে এসেছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেল ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শনিবার ভোরে তাহেরপুর স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার সাবলদহ গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ জন তাহেরপুরে আসেন। ভোরবেলা তাঁদের মধ্যে কয়েক জন রেললাইনের ধারে প্রাতঃকৃত্য সারতে যান। সেই সময় আচমকাই দ্রুতগতির একটি ট্রেন চলে আসে। ট্রেনের ধাক্কায় চার জন লাইনের উপর ছিটকে পড়েন। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্য জনের চিকিৎসা চলছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভোরের ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কম ছিল। সেই কারণেই ট্রেন আসছে বুঝতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে অন্য সম্ভাবনাগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত নদিয়ার তাহেরপুরে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদির সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তার মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
দেশ

ভোরের ট্র্যাজেডি... চোখের সামনে ছিন্নভিন্ন দেহ, ট্র্যাকে লুটিয়ে পড়লেন পুণ্যার্থীরা

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে ভোরের শান্ত সকাল মুহূর্তে পরিণত হল বিভীষিকায়। কার্তিক পূর্ণিমার পুণ্যস্নান শেষ করে স্টেশনে ফিরছিলেন বহু ভক্ত। সকালের ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা। প্ল্যাটফর্মের উল্টো দিকে নামতে গিয়ে হাওড়া-কালকা মেলের তলার তলায় চলে গেলেন তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ গেল অন্তত ছয় পুণ্যার্থীর, আহত একাধিক। চিৎকারে, কান্নায় আর আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে ভীতি, স্তব্ধ হয়ে যায় চুনার স্টেশন।বুধবার ভোরবেলা ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর জেলার চুনার রেলওয়ে স্টেশনে। কার্তিক মাস হওয়ায় বহু পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। রেলসূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোরের সেই ভিড়ে অনেকেই প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে এসে পড়ে হাওড়া-কালকা মেল। আর তারই ধাক্কায় থেঁতলে যান পুণ্যার্থীরা। সেকেন্ডের মধ্যেই মৃত্যু, লুটিয়ে পড়ে নিথর দেহ, চারদিকে শুধু আর্তনাদ আর শোকের হাহাকার।ঘটনার পরই স্টেশন জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা। পুলিশ ও রেল আধিকারিকরা দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রেল প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেকেন মানুষজন ট্র্যাক দিয়ে নামলেন, স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ-কে উদ্ধারকাজে নেমে পড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আহতদের যত্নসহকারে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই ছত্রিশগড়ের বিলাসপুরের কাছে মালগাড়ি ও যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ যায় ১১ জনের। তার রেশ কাটার আগেই ফের ট্র্যাজেডি। রেল নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে।

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
রাজ্য

গভীর রাতে শিয়ালদহে পৌঁছল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, চোখেমুখে আতঙ্ক যাত্রীদের

অভিষপ্ত রেল যাত্রা শেষ। গন্তব্যে পৌঁছাল কাঞ্চনজঙ্ঘা। সোমবার রাত ৩.১৬ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছল দুর্ঘটনাগ্রস্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের অক্ষত অংশ। তখনও ট্রেন যাত্রীদের চোখেমুখে আতঙ্কে লর স্পষ্ট ছাপ।সেইসময় স্টেশনে হাজির ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং পূর্ব রেলের কর্তারা। ছিলেন শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম দীপক নিগম এবং অন্য আধিকারিকরা। শিয়ালদহে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন ফিরহাদ এবং রেল আধিকারিকরা। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না খোঁজ নেন তাঁরা। যাত্রীদের খাবার এবং জলের বোতল দেওয়া হয়।সোমবার গা শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ আচমকা ওই ট্রেনে পিছন দিক থেকে একটি মালগাড়ি এসে ধাক্কা মারে। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের চারটি কামরা লাইনচ্যুত হয়। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর রেল জানিয়েছে। আহতের সংখ্যা ৪১। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছাড়ার পর কিছুটা দূরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।

জুন ১৮, ২০২৪
রাজ্য

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ৯, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা রেলের, ছুটলেন রেলমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী

গা শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনার কবলে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সময় যত গড়াচ্ছে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ততই বাড়ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলেছে উদ্ধারকাজ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছাড়ার পর কিছুটা দূরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।ওই লাইনে পিছন থেকে আসা একটি মালগাড়ির সজোরে ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে দলা পাকিয়ে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুটি কামরা। ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে মৃতদেহগুলি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ড ও মালগাড়ির দুই চালক।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনার পর তদন্তে নেমে অনুমান করা হচ্ছে যে মালগাড়ির চালকের ভুলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপরণ দেওয়ার ঘোষণা রেলের। গুরুতর আহতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা এবং অল্প আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে রেল।রাঙাপানি স্টেশনের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ট্রেনের ২টি কামরা দুমড়ে মুচড়ে যায়। ট্রেনটির বাকি কামরাগুলিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মালদা টাউন স্টেশনের দিকে।ফাঁসিদেওয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শিলিগুড়ি থেকে ফাঁসিদেওয়ায় পৌঁছোন রেলমন্ত্রী। বাইকে চেপে দুর্ঘটনাস্থলে যান রেলমন্ত্রী। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, কাল সকালের মধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ হয়ে যাবে।কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বিকেলে দুর্ঘটনা স্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জেলাশাসক, এসপি, ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ চলছে। পাশাপাশি রেলের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, রেল এখন অভিভাবকহীন, রেলের পরিষেবা এখন অত্যন্ত নীচে নেমে গিয়েছে, খাবার থেকে শৌচাগার নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে নানান অভিযোগ। সময়মতো উদ্ধারকার্য্য শুরু না হলে আরও অনেকের মৃত্যু হতে পারত। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে কোন খেয়াল রাখা হয়নি। অ্যান্টি কোশিলন ডিভাইস আমি তৈরি করে দিয়ে এসেছিলাম। এখন রেলের বাজেট নেই, উঠিয়ে দিয়েছে।

জুন ১৭, ২০২৪
দেশ

করমন্ডল দুর্ঘটনা: 'কিছু একটা ঘটেছে নিশ্চয়ই', মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০! সংশয় মমতার

বালেশ্বরে করমণ্ডল এক্সপ্রেসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৮। আহতের সংখ্যা সাড়ে ছশোরও বেশি। যদিও বেসরকারি ভাবে মৃতের সংখ্য়া আরও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ও মনে করেন প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভয়ানক রেল দুর্ঘটনায়।করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলার বহু মানুষ, আহত হয়েছেন অনেকে। শুক্রবার রাত পেরিয়ে শনিবার দিনভর উদ্ধারকাজ চলছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শনিবার সকালে বালেশ্বরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে রেল-বাজেট নিয়ে ক্ষোভের কথাও উগরে দিলেন মমতা।শনিবার হেলিকপ্টারে চেপে বালেশ্বরের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখে তিনি কথা বলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে যে রাজ্যের মানুষ মারা গিয়েছেন সেই রাজ্যের সরকার মৃতদের পরিবারকে সাহায্য করবেন। আমরাও মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা দেব। ওড়িশা সরকার ও রেলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরাও কাজ করছি।রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় এদিন কেন্দ্রীয় রেল বাজেট না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু একটা ঘটেছে নিশ্চয়ই। ভালো করে তদন্ত করতে হবে। আমি তো শুনছি সংখ্যাটা ৫০০ (সম্ভবত মৃতের সংখ্যা বোঝাতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী)। রেলকেই বিশেষভাবে গোটা বিষয়টি দেখতে হবে। এখন তো রেলের বাজেটও হয় না। মুখ্যমন্ত্রী যখন এই কথাগুলো বলছেন তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তা শুনছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, এখনও পর্যন্ত ২৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, সংখ্যাটা আও বাড়তে পারে।শুক্রবার সন্ধা রাতে ওড়িশার বালেশ্বরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আপ শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এরাজ্যের বহু মানুষ দুর্ঘটনাগ্রস্ত করমণ্ডল এক্সপ্রেসের সওয়ারি ছিলেন। রাজ্যের তরফে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, নবান্নের তরফে ওডিশা সরকার এবং দক্ষিণ পূর্ব রেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যে নম্বরগুলি চালু করা হয়েছে সেগুলি হল, 033- 22143526/ 22535185. এছাড়া অন্য হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল, হাওড়া ডিভিশনের যাত্রীদের জন্য 033 2638 2217, খড়গপুর ডিভিশনের যাত্রীদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর হল 8972073925/9332392339, বালাসোর ডিভিশনের জন্য হেল্পলাইন নম্বর 8249591559/ 7978418322 এবং শালিমার ডিভিশনের জন্য 9903370746। বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যার নম্বর হল 6782262286।

জুন ০৩, ২০২৩
রাজ্য

মালগাড়ি-লোকালের ধাক্কা, ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত বর্ধমান-হাওড়া ডাউন মেইন লাইনে

মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় লোকাল ট্রেনের লাইনচ্যুত হয় বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছে। বর্ধমান-হাওড়া মেন ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বুধবার রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে নিত্য যাত্রী দুর্ভোগ পোয়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালেও এই ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ৯. ১৬ মিনিট নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় স্টেশনের কাছে ট্র্যাক চেঞ্জ করার সময় একই লাইনে চলে আসা মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় লাইনচ্যুত হয় যাত্রীবাহী ডাউন ব্যান্ডেল লোকাল। তবে দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। কিন্তু ট্রেনের যাত্রীরা যথেষ্টই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের আধিকারিকরা। দুর্ঘটনার ফলে এখনও ট্রেন চলাচল ব্যহত রয়েছে।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, ৩৭৭৮৪ ডাউন বর্ধমানব্যান্ডেল লোকাল ট্রেনটি রাত ৯. ১৬ মিনিট নাগাদ শক্তিগড় স্টেশনে ঢুকছিল। তখন দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটির গতিবেগ কম থাকায় বড়সড় কোনও বিপদ ঘটেনি। ট্রেনের যাত্রী রাজু রায় বলেন, ওই সময়ে আমরা ট্রেনে বসেই প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করি। আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তারপর দেখতে পাই আমাদের ট্রেনের একটা বগি লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। ট্রেনে ধীর গতি থাকায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে পূর্বরেলের পদস্থ কর্তারা। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।

মে ১১, ২০২৩
রাজ্য

কেটে আসা ঘুড়ি ধরতে যাওয়াই কাল হল বর্ধমানের স্কুল ছাত্রের

কেটে আসা ঘুড়ি ধরতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল ছাত্রের। মৃত ছাত্রের নাম রাজগুরু চট্টোপাধ্যায় (১৪)। মৃত কিশোরের বাড়ি বর্ধমানের নাড়ীকলোনী অরবিন্দপল্লী এলাকায়। বর্ধমান টাউন স্কুলের নবম শ্রেণীর পড়ুয়া ছিল। বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছাত্রের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার, পরিজন ও প্রতিবেশীরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র রাজগুরু চট্টোপাধ্যায় এদিন স্কুলেও গিয়েছিল। দুপুরে সে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। ছাত্রের বাবা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া সারে। তার পরেই খেলতে যাবার জন্য এক বন্ধু তাকে ডাকতে আসে। তখনই রাজগুরু বর্ধমানের কালনাগেট বাঁকা ব্রিজের কাছে খেলতে চলে যায়। সন্ধ্যায় প্রাইভেট টিচারের কাছে পড়তে যাবার কথা থাকলেও রাজগুরু বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তার খোঁজ শুরু করে। জয়ন্তবাবু বলেন,তখন এক পরিচিত মারফত তাঁরা তাঁদের ছেলে রাজগুরুর ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুর কথা জানতে পারেন। এও জানতে পারেন, খেলার সময়েই রাজগুরু সুতো কেটে ভাসতে থাকা একটি ঘুড়ি দেখতে পায়। ওই ঘুড়িটি ধরতে গিয়ে রেল লাইনের উপর চলে যায় রাজগুরু। তখই দুরন্ত গতিতে ধেয়ে আসা একটি ট্রেন সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। জিআরপি দুর্ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৩
রাজ্য

কুয়াশার মধ্যেই চলছে উদ্ধারকাজ, ময়নাগুড়ি পৌঁছলেন রেলমন্ত্রী, জন বার্লা

হাহাকার ক্রমেই বাঁধ ভাঙছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ লাইনচ্যুত হয় বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস। সেই ঘটনায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত বহু। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। রেলের জেনারেল ম্যানেজার আনসুল গুপ্তা বলেন, দুর্ঘটনার কারণ এখনই বলা যাবে না। কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি আসার পরেই সবটা জানা যাবে।শুক্রবার সকালে ময়নাগুড়িতে পৌঁছলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মধ্য রাতেই হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে যান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তার পর বিশেষ ট্রেনে করে ময়নাগুড়ির দুর্ঘটনাস্থলে রওনা হন তিনি। সকালে পৌঁছে ট্রলিতে চেপে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার পর বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। আমি নিজে এখানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। তদন্তও শুরু হয়েছে। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিরও উপর নজর রাখছেন। আমি এখানে এসেছি এই দুর্ঘটনার মূল কারণ কী তা জানার জন্য।আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগাযোগ রয়েছে। উনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।West Bengal: Railway Minister Ashwini Vaishnaw reaches the train accident site near Domohani, JalpaiguriHe says, A statutory inquiry has been initiated. PM Modi is monitoring the situation Im in constant touch with him. I wish a speedy recovery to the injured. pic.twitter.com/eiamXGjxb2 ANI (@ANI) January 14, 2022অন্যদিকে শুক্রবার ভোরেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা। তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ চলছে। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত করা হবে। রাতভর উদ্ধারকাজ চলেছে। ভোরের ঘন কুয়াশাতেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, বিএসএফ, সশস্ত্র সীমা বল-এর জওয়ানরা। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া এবং লাইনের পাশে উল্টে থাকা ট্রেনের কামরাগুলি ক্রেনের সাহায্যে এক এক করে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, কামরার ভিতরে আর কেউ আটকে আছে কি না, তা ভাল করেও খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।আহতদের ৩৬ জনের চিকিৎসা চলেছে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। ৬ জন যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের কয়েক জনকে রেফার করা হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে আটটি মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে।

জানুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

ময়নাগুড়িতে লাইনচ্যুত বিকানের এক্সপ্রেস, মৃত কমপক্ষে ৬, জখম বহু

ময়নাগুড়িতে লাইনচ্যুত বিকানের-গৌহাটি এক্সপ্রেস। তার জেরে বহু যাত্রীর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দোমোহনি এলাকায়। এক্সপ্রেস ট্রেনিটর বেশ কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছয় জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। আহত অবস্থায় ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৭ জনকে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে এবং ১৬ জনকে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পাঁচ জনকে জলপাইগুড়ি হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রেল এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। রেলের তরফে মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী নিজে নজর রাখছেন উদ্ধারকাজে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা ও অল্প আহতদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে রেল।পাটনা থেকে গুয়াহাটিগামী ওই ট্রেনটি বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনটির ৪-৫টি কামরা একেবারে দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। একটি কামরার উপরে উঠে যায় আর একটি কামরা। একটি কামরা জলেও পড়ে যায়। হতাহতের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্রেনটির ইঞ্জিনের পর থেকে ১২টি কামরা দুর্ঘটনার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৭টি কামরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ওই ট্রেনটি ছাড়ার সময় তাতে প্রায় ৭০০ যাত্রী ছিলেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। গ্যাস কাটার নিয়ে এসে কামরা কেটে যাত্রীদের বার করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটি থেকে অনেকেই নিজেই বার হয়ে এসেছেন। বাকিদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রেলের উদ্ধারকারী দলও। ইতিমধ্যেই আশপাশের সদর হাসপাতাল এবং অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।Spoke to Railways Minister Shri @AshwiniVaishnaw and took stock of the situation in the wake of the train accident in West Bengal. My thoughts are with the bereaved families. May the injured recover quickly. Narendra Modi (@narendramodi) January 13, 2022আহত যাত্রীদের প্রাথমিকভাবে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানকার পরিকাঠামো উপযুক্ত না হওয়ায় সেখান থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে আহতদের স্থানান্তরিত করা হয়। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জলপাইগুড়ির বিভিন্ন ব্লক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এবং নার্সদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০টিরও বেশি অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।Deeply concerned to hear about the tragic accident of the Bikaner-Guwahati Express in Maynaguri.Senior Officers of the State Government, DM/SP/IG North Bengal are supervising rescue and relief operations. Those injured will receive medical attention, as early as possible. Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 13, 2022রেলের হেলপলাইন নম্বর৮১৩৪০৫৪৯৯৯ , ০৩৬১ ২৭৩১৬২২ , ০৩৬১ ২৭৩১৬২৩এনজেপি স্টেশন ৯০০২০৪১৯৫১, ৯০০২০৪১৯৫কাটিহার ৯০০২০৪১৯৫২বিকানের ০১৫১২২০৮২২২দানাপুর ০৬১১৫২৩২৩৯৮দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন ০৫৪১২২৫৩২৩২শোনপুর ০৬৫১৮২২১৬৪৫নওগাছিয়া ৮২৫২৯১২০১৮বারাউনি ৮২৫২৯১২০৪৩

জানুয়ারি ১৩, ২০২২
বিদেশ

ট্রেন দুর্ঘটনা : পাকিস্তানে দুই প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত ৩০

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা পাকিস্তানের (Pakistan) সিন্ধু প্রদেশে। দুটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল অন্তত ৩০ জন যাত্রীর। আহত আরও ৫০ জন। এছাড়া দুর্ঘটনার জেরে লাইনচ্যুত হয়েছে দুটি ট্রেনের একাধিক কামরা। এর ফলে ওই এলাকায় স্তব্ধ রেল পরিষেবা। ইতিমধ্যে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটির খবর পেয়ে টুইটে শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (PM Imran Khan)।পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি জেলার অন্তর্গত রেতি ও দাহরকি স্টেশনের মধ্যবর্তী জায়গায় মিল্লত ও স্যার সইদ এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ। ওই সময় দুটি ট্রেন মিলিয়ে প্রায় ১১০০ জন যাত্রী ছিলেন। রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগে থেকেই লাইনচ্যুত হয়েছিল মিল্লত এক্সপ্রেস। সেই সময়ই করাচি থেকে সারগোধাগামী স্যার সইদ এক্সপ্রেস সোজা এসে ধাক্কা মারে মিল্লতকে। এখনও দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরাগুলির মধ্যে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যু খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকার্যের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ঘোটকি, ধারকি, ওবারো এবং মীরপুর মাথেলো এলাকার সমস্ত হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই রুটে সমস্ত ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। বগিগুলিকে কাটতে ভারী কাটার আনা হচ্ছে। এছাড়া পাঠানো হয়েছে রিলিফ ট্রেনও।ইতিমধ্যে এই ঘটনায় টুইটে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)। তিনি লেখেন, আজ সকালে ঘোটকিতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩০ জনের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করতে ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি। রেল নিরাপত্তার গাফিলতি থাকলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।

জুন ০৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

হস্টেলে আত্মহত্যা রুখতে বিশেষ ফ্যান! অতিরিক্ত ওজন পড়লেই খুলে যাবে, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

সুরাট: পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্টেলের ঘরে বিশেষ প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান বসাল গুজরাটের সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় (Veer Narmad South Gujarat University)। আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এই বিশেষ ফ্যানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি স্প্রিং মেকানিজম। ফ্যানে অতিরিক্ত ওজন পড়লে সেটি খুলে নীচে নেমে আসবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে ফ্যানকে আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ সিলিং ফ্যানের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাযুক্ত এই ফ্যান ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হল, কোনও পড়ুয়া চরম মানসিক সংকটের মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেই ঝুঁকি কমানো।বিশেষ স্প্রিং ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে ফ্যানটি তার মাউন্টিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করবে যন্ত্রটির নকশা, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।#WATCH | Surat, Gujarat | Veer Narmad South Gujarat University installs anti-suicide ceiling fans, with special spring mechanism, in hostels, designed to detach under excessive weight and cut off the power supply. https://t.co/1GM7E91n3K ANI (@ANI) October 24, 2026শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক পড়ুয়াই মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও জরুরি।বিশেষ ফ্যান বসানোর এই উদ্যোগ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়পড়ুয়াদের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal